ভোট-যুদ্ধের উত্তাপে ভবানীপুর
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১০ দিন। ভবানীপুর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উৎসাহ তুঙ্গে। এই উপনির্বাচন নিয়ে ক্রমশ উত্তেজনার পারদও চড়ছে। এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে আম-জনতা সহ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও। জঙ্গিপুর ও শামসেরগঞ্জ উপনির্বাচন নিয়ে সেভাবে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না এখনও পর্যন্ত। সবার নজর ভবানীপুর। প্রচারে অভিনবত্বও রয়েছে। ভোট যুদ্ধে ছৌ-শিল্পী,ঢাক-ঢোল বাজানোও দেখা গিয়েছে। বচসা ও অল্প বিস্তর কিছু অশান্তির খবরও রয়েছে।
এই কেন্দ্রে প্রার্থী মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রচার শুরু করবেন ২১সেপ্টেম্বর থেকেই,তৃণমূলের দলীয় সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীর হয়ে পাল্টা প্রচারে দেখা যাবে শুভেন্দু অধিকারী ও অর্জুন সিং সহ বিজেপি নেতৃত্বকে। উল্লেখ করা যায়, সব মিলিয়ে এক সপ্তাহের মতো প্রচারের সুযোগ রয়েছে । তাই প্রচারে ঝড় তুলতে মরিয়া তৃণমূল ও বিজেপি শিবির। তবে একনাগাড়ে বৃষ্টি ব্যাঘাত ঘটিয়ে চলেছে প্রচারে। এলাকার মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ রক্ষায় ব্যর্থ হতে হচ্ছে উভয় রাজনৈতিক দলকেই।
তৃণমূল সূত্রের খবর,২১ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছোট ছোট সভায় হাজির থাকার কথা রয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। এই কেন্দ্রে প্রচার করবেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ও। ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমেছেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় সহ অনেক তৃণমূল নেতা। তৃণমূল দলীয় সূত্রে জানা যায়,ভবানীপুরে আসল লক্ষ্য হচ্ছে মার্জিন বাড়ানো। ২০২৪ সালের পূর্বে এই কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে নেওয়া ।
তৃণমূল দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়,একবালপুরের ইব্রাহিম রোডে,চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে, চক্রবেড়িয়া নর্থ ও পদ্মপুকুর রোডের সংযোগস্থলে, কলিন লেন ও শেক্সপিয়ার সরণি থানার সামনে সভা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এছাড়া প্রচারের শেষ দিন ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী প্রচার শেষ করবেন হরিশ মুখার্জি রোড থেকেই । তৃণমূল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, করোনা আবহে মিছিল বা রোড শো-তে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এক্ষেত্রে ছোট ছোট সভা করেই জনসংযোগ সারবেন প্রার্থী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রচার করবেন বাড়ি-বাড়ি গিয়ে। ফিরহাদ হাকিম সব ওয়ার্ডের সঙ্গে কো-অর্ডিনেট করবেন বলে জানা গিয়েছে।
হাল ছাড়তে নারাজ বিজেপি শিবির। প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের হয়ে প্রচারে দেখা যাবে বিজেপির লড়াকু দুই নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও অর্জুন সিংকে। ইতিমধ্যেই বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং মন্তব্য করেছেন, “মমতা বন্দোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এভাবে প্রচারে নামছেন মানে ওরা জয়ের ব্যাপারে অতটা নিশ্চিন্ত নন….।” অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে,”ভবানীপুরে ওঁরা যত প্রচার করবেন তত আমাদের সুবিধা। মানুষ ওঁদের দেখে আবার বলবে গদ্দার…….।” অন্যদিকে বামপ্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসও প্রচারে রয়েছেন ভবানীপুর কেন্দ্রে।
প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি অ-বাঙালি অধ্যুষিত ভবানীপুরের উপনির্বাচনে ভোটের পারদ চড়ছে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। শেষ লগ্নে আরও জমে উঠছে উত্তেজনা। “মিনি ইন্ডিয়া” বলে পরিচিত ভবানীপুর জুড়ে অনেক “খেলা”-ই দেখা যাবে তা আন্দাজ করা যাচ্ছে । উল্লেখ্য, একুশে বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষকে পরাজিত করেছিলেন। জয়ের ব্যবধান ছিল ২৮ হাজার ৭১৯ ভোট। ২০১১সালে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যবধান ছিল ৫৪ হাজার ২১৩ ভোট। ২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রীর জয়ের মার্জিন দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৩০১ভোট।
আবারও ভবানীপুর উপনির্বাচনে লড়াইয়ের ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী। এবার প্রতিপক্ষ গেরুয়া শিবিরের আইনজীবী প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। ভবানীপুরের ভোট-যুদ্ধের বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁরা তাঁদের মতো করে বিশ্লেষণ করছেন। তবে ৩০সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ পর্ব চলবে। নির্বিঘ্নে ও শান্তিতে ভোট হলেই ছবিটা সামনে আসবে। লড়াই জোর কদমে বলা হলেও তা বোঝা যাবে ৩ অক্টোবর ফল প্রকাশের পর । এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বোদ্ধা সহ সাধারণ মানুষ।

